সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর বাজারে নেই সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বাজারের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। অন্যদিকে নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে থাকা মাছের শেডটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষাকালে ঝড়ের তাণ্ডবে শেডটির বিভিন্ন অংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নড়বড়ে টিন যেকোনো সময় খুলে পড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

সরকারি নথিতে সালুটিকর বাজারের কাঙ্ক্ষিত ইজারা মূল্য ১২ লাখ ৩ হাজার ৬২৮ টাকা উল্লেখ রয়েছে। একই নথিতে সিডিউল মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ নথিতে উল্লেখিত ১২ লাখ ৩ হাজার ৬২৮ টাকা হলো কাঙ্ক্ষিত ইজারা মূল্য; এটিকে ইজারাদারের চূড়ান্ত পরিশোধিত অর্থ বা সরকারের আদায়কৃত রাজস্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

( মাছের শেড)
২০২৬ সালের ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলার ৪২টি হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন দরপত্র আহ্বান করেছে। প্রকাশিত তালিকায় সালুটিকর বাজারের অবস্থান ২৪ নম্বরে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ থেকে ৩০ চৈত্র ১৪৩৩ পর্যন্ত এক বছরের জন্য এসব হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সালুটিকর বাজারের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিশেষ করে নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পাশে আঙ্গারজোর গ্রামে যাওয়ার মাঝের রাস্তায় ময়লার স্তূপ জমে রয়েছে। ময়লা পচে ওই এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

( পূর্ব পাশে সিঁড়ির)
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকেও ওই দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে অনেক সময় সেবা নিতে আসা মানুষকে নাক চেপে চলাচল করতে হয়। এতে পরিষদে আসা জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে থাকা মাছের শেডটির অবস্থাও নাজুক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় শেডের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। বর্ষাকালের ঝড়ের তাণ্ডবে এর ওপরের টিনগুলো আরও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ওই শেডের নিচে মাছ বিক্রি ও কেনাকাটা করেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। ফলে নড়বড়ে টিন বা শেডের কোনো অংশ খুলে পড়ে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ শেডটির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর সংস্কার করা হয়নি। বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় শেডের নিচে থাকা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, বাজারের ইজারা-সংক্রান্ত কার্যক্রম থাকলেও পরিচ্ছন্নতা, ময়লা অপসারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে ইজারাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারের পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তাদের দাবি, বাজারের যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে দ্রুত নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পাশের সড়কে জমে থাকা ময়লার স্তূপ অপসারণ করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ মাছের শেডটি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন শেড নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে বাজারের পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতা ও সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।





