নাটোরের গুরুদাসপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও একটি দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাদরাসাটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া দাখিল মাদরাসার আরবি বিষয়ের জ্যেষ্ঠ মৌলভী দেলোয়ার হোসেন ওই বক্তব্য দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ।

ভিডিওতে যা শোনা যায়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় দেড় মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, মাদরাসার অফিসকক্ষে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী উপস্থিত রয়েছেন। সেখানে প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল।

ভিডিওটি ২৮ জুলাই বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভিডিওর ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের দিকে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘ইউএনও তো স্বাক্ষর করেনি।’

এরপর শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘ইউএনওকে চমকায় দিবোনি, সে মরদও আছে।’

ভিডিওতে ওই সময় মাদরাসার কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক মাজেদুল ইসলাম, গণিতের শিক্ষক আবদুল আজিজ, আরবি বিষয়ের সহকারী মৌলভী তৈয়ব আলী, এবতেদায়ি শিক্ষক মকবুল হোসেন, জীববিজ্ঞানের শিক্ষক শাহানাজ খাতুন ও পিয়ন মফিজ উদ্দিনসহ কয়েকজনকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

তবে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁদের মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি। তাঁকে বা ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে তিনি কোনো হুমকিমূলক বক্তব্য দেননি।

ভিডিওতে উপস্থিত শিক্ষক তৈয়ব আলী ও মকবুল হোসেনও বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে দেলোয়ার হোসেন ওই বক্তব্য দেন। তাঁদের ভাষ্য, বক্তব্যটি ইউএনওকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকির মতোই শোনায়। তবে প্রভাবশালী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে অনাগ্রহী।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার ওসমান গণি বলেন, কথাটি তাঁর সামনে বলা হয়নি। তবে মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি তিনি ইউএনওকে জানাননি বলেও জানান।

শিক্ষার্থীদেরও অভিযোগ

এদিকে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ‘মাদকাসক্ত’ বলে গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবক মাদরাসায় গিয়ে অন্য শিক্ষকদের কাছে প্রতিবাদ জানান। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন প্রায়ই তাঁদের মাদকাসক্ত বলে গালিগালাজ করেন। একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটায় তাঁরা প্রথমে মাদরাসার সুপারকে বিষয়টি জানান। পরে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফাহমিদা আফরোজ বলেন, শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষকের কথিত হুমকির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।