সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ময়লা-আবর্জনা ও যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরই উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শহীদ মিনারের পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকা পার্কিংমুক্ত রাখাসহ আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী।

1000123830.jpg

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহীদ মিনার, উপজেলা প্রশাসন চত্বর ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন ইউএনও রতন কুমার অধিকারী। এ সময় শহীদ মিনারের সংরক্ষিত সীমানার মধ্যে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং না করার জন্য ইজিবাইক চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন পার্কিং এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার অভিযোগ ছিল। এতে একদিকে শহীদ মিনারের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল, অন্যদিকে যানবাহনের চাপের কারণে সৃষ্টি হচ্ছিল যানজট ও জনভোগান্তি।

এদিকে, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সারাদেশে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের ভেতর ও বাইরে দিনব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

1000123824.jpg

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। কর্মসূচির আওতায় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা রয়েছে।

গোয়াইনঘাটে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সরোয়ার আহমদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার শ্যামল কুমার রায়, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া কয়েছ, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ক্লাবের  সদস্যবৃন্দ , জেলা সমন্বয় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

1000123569.jpg

ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, “শহীদ মিনার আমাদের জাতীয় অহংকার এবং আবেগ ও শ্রদ্ধার স্থান। এর পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। যারা এই নির্দেশ অমান্য করে শহীদ মিনার এলাকায় অবৈধ স্ট্যান্ড বা দোকান বসিয়ে যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, শুধু তাৎক্ষণিক নির্দেশনা নয়, নিয়মিত নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও পরিবেশ স্থায়ীভাবে রক্ষা করা হবে।