আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের পাশাপাশি মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক। রক্তের অভাবে সংকটাপন্ন এক প্রসূতির জীবন বাঁচাতে নিজের শরীর থেকে রক্ত দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সিলেটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা ও গোয়াইনঘাট উপজেলার লেংগুড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হামিদের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জুলফা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, প্রসূতি ও গর্ভস্থ সন্তানের জীবন রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে রক্তদাতা না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন স্বজনরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জুলফা বেগমের শারীরিক অবস্থারও অবনতি হচ্ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুকের নজরে আসে। খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, রোগীর রক্তের গ্রুপের সঙ্গে তার নিজের রক্তের গ্রুপ মিলে গেছে।
এরপর কোনো দ্বিধা না করে নিজেই রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওসি ওমর ফারুক। হাসপাতালে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে তিনি সংকটাপন্ন প্রসূতির পাশে দাঁড়ান। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়ে জুলফা বেগমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়।
জুলফা বেগমের মামা জুবায়ের আহমদ বলেন, “যখন চারদিকে অন্ধকার দেখছিলাম এবং কোনোভাবেই রক্তের ব্যবস্থা করতে পারছিলাম না, তখন ওসি স্যার এগিয়ে এসে রক্ত দিয়ে জুলফার জীবন বাঁচিয়েছেন। তাঁর এই সহযোগিতার কথা আমরা কোনোদিন ভুলব না।”
গোয়াইনঘাট কেয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শায়লা ইসলাম স্বর্ণা জানান, সময়মতো রক্ত পাওয়ায় রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম সহজ হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ওসি ওমর ফারুকের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো পুলিশের মানবিক ভূমিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত এটি।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, “পুলিশের মূল কাজই হলো মানুষের সেবা করা এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানো। একজন গর্ভবতী নারী রক্তের অভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি—এমন খবর পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচানোকে আমি নিজের দায়িত্ব মনে করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক কর্তব্য। একজন মা ও তাঁর অনাগত সন্তানের জীবন রক্ষায় সামান্য ভূমিকা রাখতে পেরে আমি আত্মতৃপ্তি পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ জনগণের সেবক। আমরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছি এবং থাকব।”




