রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্তান প্রসবের পর এক প্রসূতি ও তার নবজাতক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসাসেবায় অবহেলার কারণে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিরুদ্ধে বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রসূতির ভাই মো. রিংকু মিয়া।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, রিংকু মিয়ার বোন আখি খাতুন (২১) প্রসবব্যথা নিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে রাখা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানী প্রসূতিকে দেখে স্বাভাবিক প্রসব হবে বলে পরিবারকে আশ্বস্ত করেন। পরিবারের সদস্যরা সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য তাকে অন্যত্র নেওয়ার উদ্যোগ নিলে স্বাভাবিক প্রসব করানোর কথা বলে তাদের নিরুৎসাহিত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, একাধিকবার প্রসূতিকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে নিতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি হাসপাতাল থেকে বের করলে সিঁড়িতেই সন্তান প্রসব হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে ওই দিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে সন্তান জন্ম নিলেও প্রসূতি ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাদের দ্রুত ফরিদপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের জায়েদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, প্রসবের সময় প্রসূতির শরীরের এক পাশে গুরুতর ক্ষত হয়েছে এবং সেখানে ১৮ থেকে ২০টি সেলাই প্রয়োজন হয়েছে। নবজাতকের মাথায় আঘাতের কারণে রক্ত জমাট এবং বাম হাতেও আঘাত রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় অবহেলা ও ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে মা ও নবজাতকের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের চিকিৎসায় বর্তমানে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলেও দাবি করেছে পরিবার।

এ ঘটনায় রিংকু মিয়া বালিয়াকান্দি থানায় কল্পনা রানীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। অভিযোগপত্রে কয়েকজন সাক্ষীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানী কিংবা বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অভিযোগের সত্যতা এবং চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।