স্থানীয় সরকার ভোটের আগে জনসেবার ব্যস্ততা, জয়ের পর পাঁচ বছর নীরবতা—জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন কেন জনসাধারণের মনে।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই গ্রামীণ জনপদে বাড়তে থাকে নির্বাচনী তৎপরতা। পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সবখানেই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ে। ভোটের আগে প্রার্থীদের এই হঠাৎ তৎপরতা ও জনসেবার আগ্রহকে অনেকে ‘বসন্তের কোকিল’দের আনাগোনা হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন সামনে এলেই অনেক প্রার্থী সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজ নিতে বাড়ি বাড়ি ছুটে যান। বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, অসুস্থদের খোঁজ নেওয়া কিংবা নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়।
তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর একই ধরনের তৎপরতা অনেক ক্ষেত্রেই আর দেখা যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ভাঙা রাস্তায় নজর পড়ে নির্বাচনের সময়
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকেই নিয়মিতভাবে নিজ নিজ এলাকার মানুষের সমস্যার খোঁজ রাখেন না। বিশেষ করে ভাঙা রাস্তা, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, নাগরিক সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে বছরের পর বছর ভোগান্তিতে থাকেন সাধারণ মানুষ।
বর্ষা মৌসুমে গ্রামের কাঁচা ও আধা-পাকা সড়ক কাদা-পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে তা সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অথচ নির্বাচন সামনে এলে সেই ভাঙা সড়ক দিয়েই প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে দেখা যায়।
পাঁচ বছর পর কেন বাড়ে জনসম্পৃক্ততা?
নির্বাচন নিয়ে এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন—জনপ্রতিনিধিত্ব কি কেবল নির্বাচনের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নির্বাচনের পরও পাঁচ বছর ধরে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা হবে?
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া। তাই ভোটের আগে কয়েক মাসের তৎপরতার পরিবর্তে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পুরো মেয়াদজুড়েই জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সচেতন ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবার ব্যালটে
নির্বাচন এলেই গ্রামে গ্রামে কৃত্রিম ভালোবাসার যে জোয়ার ওঠে, তা স্থানীয়দের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার কিংবা ভোটের আগের নাটকীয়তা দিয়ে যে স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়, তা গ্রামের মানুষ বুঝতে পারছে। আগামী নির্বাচনে ভোটাররা প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন—এটাই প্রত্যাশা।”
আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ভোটাররা এবার শুধু প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর না করে প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা, সততা ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে সাময়িক তৎপরতার চেয়ে পাঁচ বছর ধরে জনগণের পাশে থাকা জনপ্রতিনিধিই চান ভোটাররা।
লেখক - ইসমাইল হোসেন শিমুল
সাবেক সহ-সভাপতি
এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি।




