যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দিতে নির্মাণ করা হয়েছিল যাত্রী ছাউনি। কিন্তু সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রতিটি সড়কের নির্মিত যাত্রী ছাউনি গুলো হয় দখলে না হয় ময়লার ভাগার।
এমনই চিত্র চোখে পড়ে গোয়াইনঘাট–সালুটিকর গুরকচি বাজার, বঙ্গবীর পয়েন্ট ও নয়াবাজারে সেই ছাউনিগুলোই এখন যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুরকচি বাজারের ছাউনি ফুটপাতের দোকানের দখলে, বঙ্গবীর পয়েন্টের ছাউনিতে ময়লা-আবর্জনা জমে তৈরি হয়েছে ভাগাড়ের পরিবেশ। নয়াবাজারের ছাউনিতেও নেই যাত্রীদের বসা বা অপেক্ষা করার উপযোগী পরিবেশ। প্রশ্ন উঠেছে—জনসাধারণের অর্থে নির্মিত এসব স্থাপনা দেখভালের দায়িত্ব আসলে কার?
গুরকচি বাজারে দেখা যায়, যাত্রী ছাউনির আশপাশ ও প্রবেশপথের বড় একটি অংশ ফুটপাতের দোকান ও পণ্যের দখলে চলে গেছে। ফলে ছাউনিটি থাকলেও যাত্রীদের স্বাভাবিকভাবে সেখানে বসার সুযোগ নেই। যানবাহনের অপেক্ষায় থাকা মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সড়কের পাশে। যাত্রীদের জন্য নির্মিত একটি স্থাপনা কীভাবে দিনের পর দিন এভাবে দখলে থাকে—এ প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের।
বঙ্গবীর পয়েন্টের চিত্র আরও বিব্রতকর। ছাউনির ভেতর ও চারপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় জায়গাটি অনেকটা ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেখানে বসা তো দূরের কথা, দাঁড়াতেও অনেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। অথচ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা এবং জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
নয়াবাজারের যাত্রী ছাউনিতেও একই ধরনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের বসা ও অপেক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ না থাকায় রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ এতে আরও বাড়ছে। ফলে তিনটি ছাউনির বাস্তব চিত্রই বলছে—স্থাপনা আছে, কিন্তু যাত্রীসেবা কার্যত অনুপস্থিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বাজারে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকির অভাবেই যাত্রী ছাউনিগুলো দখল, ময়লা ও অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছে। বাজারের জায়গা ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে কারা রয়েছেন—তা নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যদি নিয়মিত নজরদারি করত, তাহলে যাত্রীদের জন্য নির্মিত স্থাপনা এভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ত না বলে মনে করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি যাত্রী ছাউনি দখল হয়ে যায়, আরেকটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়, অন্যটিতেও বসার পরিবেশ থাকে না—তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আসছে না কেন? তাঁদের দাবি, দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সাত দিনের মধ্যে গুরকচি বাজারের যাত্রী ছাউনি দখলমুক্ত, বঙ্গবীর পয়েন্টের ছাউনি ময়লামুক্ত এবং নয়াবাজারের ছাউনিকে ব্যবহার উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির স্থায়ী ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাঁদের ভাষ্য, যাত্রীদের জন্য নির্মিত স্থাপনা যদি যাত্রীরাই ব্যবহার করতে না পারেন, তাহলে সেটি শুধু অব্যবস্থাপনা নয়—জনসেবার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলার মতো বিষয়।




