বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সারি। ভিসা অফিসের বাইরে অপেক্ষারত মানুষের ভিড়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন। দৃশ্যগুলো এখন আমাদের কাছে এতটাই পরিচিত যে অনেক সময় সেগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনও বোধ করি না। অথচ এই দৃশ্যের আড়ালে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা—দেশের একটি বড় অংশের তরুণ ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য দেশের সীমানার বাইরে সম্ভাবনা খুঁজছে।

প্রতিকী ছবি
প্রশ্ন হলো, কেন?
বিদেশে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নতুন কিছু নয়। উন্নত শিক্ষা, ভালো কর্মপরিবেশ, উচ্চ আয় কিংবা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার জন্য মানুষ যুগ যুগ ধরে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গেছে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তাদের অনেকেই সেখানে সফল হচ্ছেন, পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন। তাই বিদেশযাত্রাকে স্বভাবতই নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সমস্যা অন্য জায়গায়। যখন একজন তরুণ নিজের দেশের সম্ভাবনার চেয়ে বিদেশের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকেও বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন, তখন বিষয়টি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সীমা ছাড়িয়ে জাতীয় আলোচনার দাবি রাখে।
উচ্চশিক্ষা শেষ করেও যোগ্যতামতো চাকরি না পাওয়া, দীর্ঘ সময় বেকার থাকা, কম বেতন, কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা এবং দক্ষতার সঙ্গে চাকরির বাজারের অসামঞ্জস্য—তরুণদের হতাশার অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে, যেখানে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল ও সার্টিফিকেট অর্জনই সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার। ফলে শিক্ষা ও কর্মবাজারের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়, সেটি বেকারত্বের সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
উন্নত জীবনের আশায় বিদেশযাত্রা: কেন নয় নিজের দেশে?
লেখিকা: ফাহমিদা আক্তার রিপা
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়- ঢাকা।


