স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু হয়ে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ চলবে আগামী বছরের ২৭ মে পর্যন্ত

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচন উপযোগী ৪ হাজার ২৭২টি ইউনিয়ন পরিষদে সাত ধাপে ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউপিতে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপ ২৭ মে

তবে এসব তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পাঁচ ধাপে ৬৩টি জেলার ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়নে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁও জেলায় ২৯ অক্টোবর একটি উপনির্বাচন থাকায় সেখানে প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন না করার পরিকল্পনা করেছে কমিশন। ওই জেলার ইউপিগুলো পরবর্তী ধাপে নেওয়া হতে পারে।

ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বার্ষিক পরীক্ষা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রমজান ও ঈদসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব ইউনিয়নের নির্বাচন করার সময় আগে শেষ হবে, সেসব ইউনিয়নকে প্রথম দিকের ধাপে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, কোনো কারণে প্রথম দিকের ধাপে কোনো ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব না হলে সেগুলো শেষের দুই ধাপে নেওয়া হবে। জেলার অভ্যন্তরীণ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যবহার করে নির্বাচন পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনেই ইউপি ভোট

স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে এসব সংশোধন কার্যকর করতে সংসদীয় প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হওয়ায় আসন্ন ইউপি নির্বাচন বর্তমান আইনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ

ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সম্ভাব্যভাবে ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিন ধাপে এ সংলাপ হতে পারে। নিবন্ধনের ক্রম অনুযায়ী দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং প্রতিটি দল থেকে দুজন প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও জাতীয় নির্বাচনের মতো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।

তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত তারিখগুলো সম্ভাব্য সূচি মাত্র। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ও পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করা হবে।

সূত্র - সমকাল