পল্লী বিদ্

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে চারটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় এক বছর ধরে তমছেল মন্ডল, চগর শেখ, সাগর শেখ ও হাসিনা বেগমের পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৫ সদস্যকে বাড়ি থেকে বের হতে হাঁটুসমান পানি ও কাদামাটির পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটি স্থাপনকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে তমছেল মন্ডলের পরিবারের বিরোধের সূত্রপাত। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর প্রতিপক্ষরা বাড়িগুলোর সাধারণ প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে স্বাভাবিক যাতায়াতের পথ হারিয়ে পরিবারগুলোকে পাশের নিচু মাঠের পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তমছেল মন্ডলের বসতঘরের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের তার টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। এ সময় তমছেল মন্ডলের মেয়ে তানজিনা খাতুনকে মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় তমছেল মন্ডলের ছেলে সুজন মন্ডল থানায় অভিযোগ করেন। এর পরই চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

পরিবারগুলোর সদস্যদের অভিযোগ, পথ বন্ধ করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সাগর শেখ বলেন, “আমাদের বাড়ির পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বন্দী জীবন পার করছি। হাঁটু পানি মাড়িয়ে বাইরে যেতে হয়। এর মধ্যে আমাদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে রাতেও ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি তাকে মারধর করে কিস্তির টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সুজন মন্ডলের অভিযোগ, তার বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের তার না টানিয়ে পথের পাশ দিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তা মানা হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা এবং চলাচলের পথে বেড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তিনি আরও দাবি করেন, তার ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে আক্তার নামে এক ব্যক্তি ছয় লাখ টাকা নিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুজন মন্ডল জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে গেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এহসানুল হক শিপন উভয় পক্ষকে দুই দফা ডেকে শুনানি করেন। শুনানিতে অভিযুক্ত ইসরাফিল ও ইমরান দ্রুত বেড়া অপসারণের শর্তে লিখিত মুচলেকা দেন। কিন্তু এরপরও বেড়া অপসারণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পরও পথটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে চার পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পানি-কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা হলে আকতার বলেন, “আমাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছি। এটা অপসারণ করার ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। এখানে আসতে হলে আমাদের অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। এক ঘর লোক আমাদের সঙ্গে বিরোধ করতে আসে। আমরা বেড়া সরাব না, কারও ক্ষমতা থাকলে সরিয়ে দেখাক।”

অভিযুক্ত মুক্তি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার কারণেই তারা বেড়া দিয়েছেন। তবে বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের তার টানানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।

নারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম চুন্নু ঘটনাটিকে অমানবিক উল্লেখ করে বলেন, একটি বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে বিরোধের জেরে চারটি পরিবারকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বেড়া অপসারণ করা এবং পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “আমি বিষয়টি জানি না। নতুন এসেছি। মুচলেকা দেওয়ার পরও বেড়া অপসারণ না করা আইনের অবমাননা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”