রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে প্রবল স্রোত ও পলি জমে নাব্যতা সংকট দেখা দেওয়ায় ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ রয়েছে। ব্যস্ততম এ নৌরুটের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটটি বন্ধ থাকলেও বর্তমানে দৌলতদিয়া প্রান্তের মহাসড়কে নেই আগের মতো যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ফলে একসময় ব্যস্ততায় সরগরম থাকা সড়কজুড়ে এখন অনেকটাই শূন্যতার চিত্র দেখা গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দীন।
ঘাটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রবল স্রোতের কারণে নদীতে পলি জমে ৭ নম্বর ঘাট এলাকায় নাব্যতা সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ফেরি ঘাটে ভিড়তে গিয়ে তলদেশে আটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে ঘাটটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটের অন্যান্য সচল ঘাটগুলোতে যানবাহন পারাপারের চাপ রয়েছে। তবে মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট থেকে দূরবর্তী অংশে আগের মতো দীর্ঘ যানজটের দৃশ্য নেই। ফলে ব্যস্ত দৌলতদিয়া মহাসড়কের চেনা কর্মচাঞ্চল্যের বদলে অনেকটা ফাঁকা ও নীরব পরিবেশ দেখা গেছে।
ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সারা বছর ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও প্রায় প্রতিবছরই নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরিতে নদী পার হতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট বেশি সময় লাগছে।
কাগজে-কলমে দৌলতদিয়া প্রান্তে সাতটি ফেরিঘাট থাকলেও বর্তমানে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট সচল রয়েছে। ১ ও ২ নম্বর ঘাট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সম্প্রতি ৫ নম্বর ঘাট নির্মাণ করা হলেও সেটিও চলাচলের অনুপযোগী বলে জানা গেছে। ফলে কার্যকর ঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় নৌরুটে ফেরি পারাপারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দীন বলেন, “শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে নাব্যতা সংকটের কারণে ৭ নম্বর ঘাটটি বন্ধ রয়েছে। ঘাটটি চালু করার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বহরে থাকা ১৮টি ফেরির মধ্যে ১২টি ফেরি চলাচল করছে।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, “৭ নম্বর ঘাটে চরের একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ কারণে ঘাটটি বন্ধ রয়েছে। যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় পুলিশের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে।”
নাব্যতা সংকট দ্রুত নিরসন করে ৭ নম্বর ঘাটটি পুনরায় চালু করা না হলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি পারাপারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।





