রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মিছিলের ঘটনার পর গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকেও প্রত্যাহার করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা অফিস আদেশে ডিসি এম তানভীর আহমেদকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে তাঁকে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবারই গুলশান মডেল থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
গুলশানে কী ঘটেছিল গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানাধীন ৩ নম্বর সড়কের কেএফসি-সংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন।
পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার এবং পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় অন্তত ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর একই মামলায় আরও কয়েকজন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল।
তবে তাঁর ভাষ্য, ওই সময় জুমার নামাজ আদায়ের কথা বলে সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারেন—পুলিশ হয়তো তা আগে থেকে ধারণা করতে পারেনি। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
ডিসি ও ওসিকে প্রত্যাহারের পৃথক অফিস আদেশে তাঁদের সরানোর কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণে’ উল্লেখ করা হয়েছে। আদেশে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট শাস্তিমূলক অভিযোগের কথা উল্লেখ নেই।




